জামায়াতে যুক্ত হওয়ার পর কওমি ঘরানার হওয়ায় কখনো বৈষম্যের শিকার হইনি

একসময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে কঠোর সমালোচনা ও কটু কথা বললেও সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন কওমি ঘরানার একজন কর্মী। তিনি বলেছেন, জামায়াতে যুক্ত হওয়ার পর কখনোই তাকে কওমি ঘরানার মানুষ হিসেবে আলাদা চোখে দেখা হয়নি, বরং নেতৃত্বে আসার জন্য তাকে বারবার উৎসাহিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, একটা সময় জামায়াতকে অনেক গালিগালাজ করেছি। আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন। কিন্তু যখন থেকে জামায়াতে যুক্ত হয়েছি, আজ পর্যন্ত একবারও আমার মনে হয়নি যে, আমি কওমি ঘরানার বলে তারা আমাকে আলাদা চোখে দেখেছে। বরং সম্পূর্ণ বিপরীত অভিজ্ঞতাই হয়েছে।
তার ভাষ্য, জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে কওমি অঙ্গনের আলেম-উলামাদের প্রতি আন্তরিকতা ও সম্মান তিনি নিজ চোখে দেখেছেন। তাকে বারবার বলা হয়েছে, আপনারা নেতৃত্বে আসবেন, এগুলো আপনাদের কাজ, আমাদের কাজ নয়।
তিনি আরও বলেন, মুফতি আলী হাসান উসামাসহ জামায়াতে যুক্ত হওয়া বিভিন্ন তরুণ ও প্রবীণ আলেম-উলামার প্রতি সংগঠনটির নেতাকর্মীদের আন্তরিকতা ও সম্মানও তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন।
তবে জামায়াতকে কখনো কওমি বিদ্বেষী, কখনো সাহাবা বিদ্বেষী, কিংবা পথভ্রষ্ট হিসেবে আখ্যায়িত করার বিষয়টি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমি নিজে জামায়াতের দারসুল কুরআন ও দারসুল হাদিসে সাহাবায়ে কেরামের ত্যাগ, সংগ্রাম ও আদর্শ অনুসরণের আলোচনা হতে দেখেছি। কাউকে না জেনে, তার ঈমান-আমল সম্পর্কে অবগত না হয়ে তাকে পথভ্রষ্ট বলে দেওয়া কি এতটাই সহজ?
নিজের প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, আপনি আমার ঈমান সম্পর্কে কী জানেন? আমার আমল সম্পর্কে কী জানেন? আমার অন্তরের অবস্থা সম্পর্কে আপনি কতটুকু অবগত? তাহলে আমাকে পথভ্রষ্ট বলার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে?
তিনি বলেন, কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধে জড়ানোর ইচ্ছা তার নেই। তবে কারও ঈমান ও আমল নিয়ে ভিত্তিহীন মন্তব্য করা হলে তার প্রতিবাদ করা স্বাভাবিক।
সবশেষে তিনি বলেন, আল্লাহ আমাদের সবাইকে সত্যকে সত্য হিসেবে বোঝার, অন্যের ব্যাপারে ইনসাফ করার এবং জিহ্বাকে সংযত রাখার তাওফিক দিন। যারা না জেনে অন্যের ওপর অপবাদ বা কঠিন মন্তব্য করেন, আল্লাহ তাদেরও ক্ষমা করুন, আমাদেরও ক্ষমা করুন।