আবুল আ’লা মওদুদী (১৯০৩–১৯৭৯) উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ, দার্শনিক, লেখক ও রাজনৈতিক নেতা। আধুনিক যুগে ইসলামী চিন্তা ও সমাজব্যবস্থার পুনর্জাগরণে তাঁর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মওদুদী (রহ.) ১৯০৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ ভারতের হায়দরাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পরিবার ছিল ধর্মপ্রাণ ও শিক্ষিত। তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি ঘরেই আরবি, ফারসি, উর্দু এবং ইসলামি জ্ঞানে পারদর্শিতা অর্জন করেন।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত হন এবং বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করেন। ধীরে ধীরে তিনি ইসলামের একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে ধারণা প্রচার করতে থাকেন।
তাঁর মতে, ইসলাম কেবল ইবাদত বা ব্যক্তিগত জীবনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি সামগ্রিক সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। ১৯৪১ সালে তিনি Jamaat-e-Islami প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য ছিল ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করা। তাঁর নেতৃত্বে এই সংগঠন দক্ষিণ এশিয়ার ইসলামি আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মওদুদী (রহ.) ছিলেন একজন শক্তিশালী লেখক ও চিন্তাবিদ। তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ ইসলামী জগতে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রচনা “তাফহিমুল কুরআন”, যা কুরআনের একটি সহজবোধ্য ব্যাখ্যা। এছাড়া “ইসলামিক আইন ও সংবিধান”, “খিলাফত ও রাজতন্ত্র” এবং “পর্দা” প্রভৃতি গ্রন্থও অত্যন্ত জনপ্রিয়। তাঁর জীবনে নানা প্রতিকূলতা ও সংগ্রাম ছিল।
পাকিস্তানে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেন। তবুও তিনি তাঁর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি এবং নিরলসভাবে ইসলামের দাওয়াহ ও চিন্তা প্রচার করে গেছেন। ১৯৭৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের Buffalo শহরে ইন্তেকাল করেন। পরবর্তীতে তাঁকে পাকিস্তানের Lahore শহরে দাফন করা হয়। আবুল আ‘লা মওদুদী (রহ.) এমন একজন মনীষী, যিনি ইসলামকে আধুনিক যুগের প্রেক্ষাপটে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর চিন্তাধারা, সাহিত্য ও আন্দোলন আজও মুসলিম উম্মাহর জন্য অনুপ্রেরণা ও পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচিত হয়।